এলডিসি উত্তরণে সময় চায় বাংলাদেশ, ডব্লিউটিও সম্মেলন শুরু
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে ইয়াউন্দে-তে। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সংস্থাটির ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও আলোচকরা অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, বিনিয়োগ সহায়তা চুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য খাতে ভর্তুকি সীমিতকরণ এবং ই-কমার্স মোরাটোরিয়ামের ভবিষ্যৎসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।
এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ইস্যুও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বাংলাদেশ-সহ এলডিসিভুক্ত দেশগুলো উত্তরণের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।
এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের কথা থাকলেও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত তিন বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর ফলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের রপ্তানির বড় অংশ এলডিসি নির্দিষ্ট বাণিজ্য সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। এই সুবিধা কমে গেলে রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য ডব্লিউটিও কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, সময় বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতি গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।