আশাজাগানিয়া সূচনা, তবে সামনে কঠিন পথ
দীর্ঘ দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে দলটি। নতুন নেতৃত্ব, নতুন অঙ্গীকার এবং জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে তাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছে এক প্রতিকূল সময়ে।
সরকার গঠনের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন প্রশাসন। যদিও স্বল্প সময়ের কার্যক্রম দিয়ে পুরো সরকারের মূল্যায়ন করা যায় না, তবুও শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ—কারণ সূচনাতেই বোঝা যায় সরকারের দিকনির্দেশনা। সে বিবেচনায় বিএনপি সরকারের শুরু অনেকটাই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড চালু, ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা প্রদান, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন কর্মসূচি এবং গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর মতো পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান-এর সরল জীবনযাপন, প্রটোকল কমানো এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আনার উদ্যোগও প্রশংসিত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টায় সচিবালয়ে উপস্থিত হওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও যানবাহনের বহর কমিয়ে সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করার বিষয়টি জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তবে এই আশাব্যঞ্জক সূচনার মধ্যেই সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত সমস্যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সামনে সরকারের জন্য পথটি সহজ নয়।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার উদ্যোগও দেখা গেছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমঝোতার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন সরকারের যাত্রা আশাজাগানিয়া হলেও সামনে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জে ভরা এক দীর্ঘ পথ। সেই পথ কতটা সফলভাবে অতিক্রম করা যাবে, সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।