রবিবার , ১১ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ১১ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › দীপকে আটক, দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্বে অজিঙ্কা শিন্ডে

দীপকে আটক, দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্বে অজিঙ্কা শিন্ডে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
দীপকে আটক, দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্বে অজিঙ্কা শিন্ডে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডে আলোচনায় উঠে এসেছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।


শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান শিন্ডে।


গাড়ির ভেতর থেকে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি বলেন, সবাইকে মিছিল নিয়ে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে আসতে হবে। দিল্লি পুলিশ তাঁদের থামানোর চেষ্টা করলেও আন্দোলন বন্ধ হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘পুলিশ আমাদের যেখানে থামাবে, সেখানেই আমাদের যন্তর মন্তর তৈরি হবে।’


দলের পক্ষ থেকেও ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।


বিমানবন্দর থেকে আটক সিজেপির শীর্ষ নেতারা


শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে পুলিশ।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ দাবি জানিয়ে আসছে দলটি।


দলের শীর্ষ নেতাদের আটকের আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। শুক্রবার ধারণ করা একটি ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, নেতৃত্বকে আটক করা হলে অজিঙ্কা শিন্ডে আন্দোলনের দায়িত্ব নেবেন। শনিবার দীপকের আটকের পর ভিডিওটি প্রকাশ করে সিজেপি।


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দলটি জানায়, আটক নেতাদের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত শিন্ডে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন।


কে এই অজিঙ্কা শিন্ডে?


৩৫ বছর বয়সী অজিঙ্কা শিন্ডের বাড়ি ভারতের মহারাষ্ট্রের লাতুরে। তিনি ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রযুক্তিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সিজেপির অন্যতম প্রধান সংগঠক। ২০২৬ সালের আগস্টে তাঁকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর মুম্বাইয়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারাভিযানে ভূমিকা রাখেন তিনি। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভেও উপস্থিত ছিলেন শিন্ডে।


দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও এত দিন গণমাধ্যমের সামনে খুব একটা আসেননি তিনি। দীপকের আটকের পর প্রকাশ্যে আন্দোলনের নেতৃত্ব নেওয়ায় তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


### এএপির সঙ্গে অতীত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আলোচনা


শিন্ডের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতিতে আম আদমি পার্টির মহারাষ্ট্র যুব শাখার সাবেক আহ্বায়ক এবং গোয়ায় দলের সহ-প্রভারির দায়িত্ব পালনের তথ্য উল্লেখ ছিল।


পরবর্তী সময়ে এএপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাঁর একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ফেসবুক পেজও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।


বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে শিন্ডের একটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর নিয়োগের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, এএপি জানিয়েছে, সিজেপির কয়েকজন সদস্য অতীতে তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে দল ছেড়ে চলে গেছেন। তবে এ বক্তব্যে শিন্ডের নাম নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।


দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা ও প্রণব আহিরেসহ চার শতাধিক সমর্থকের সঙ্গে শিন্ডের নামও একটি এজাহারে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এজাহারে নাম থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়।


### দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার, আটক বহু বিক্ষোভকারী


সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর প্রায় ৫০০ জন সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করা হয়। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


সিজেপির দাবি, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয়েছে।


এদিকে, আকাশবাণী ভবনের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একদল বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানানো হয়েছে।


বিক্ষোভের আগে দীপকে দাবি করেছিলেন, তাঁরা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে কর্মসূচি পালন করতে চান। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রতিবাদ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।


দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় দিল্লির বিক্ষোভের পরবর্তী কর্মসূচি এখন অজিঙ্কা শিন্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তবে পুলিশের বাধা, ধরপাকড় এবং বিক্ষোভস্থলে উত্তেজনার মধ্যে আন্দোলন কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।