গণগ্রেপ্তার করেও আন্দোলন থামানো যাবে না, মোদি সরকারকে রাহুলের হুঁশিয়ারি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচি দমাতে গণগ্রেপ্তার কিংবা পুলিশি হয়রানি চালিয়েও আন্দোলন থামানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধি। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে চাপে ফেলার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আন্দোলনরত তরুণদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন কংগ্রেসের এই নেতা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন রাহুল গান্ধি।
ভিডিওবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, সরকার যত খুশি পুলিশ মোতায়েন করুক কিংবা ১০ হাজার, ২০ হাজার বা ৫০ হাজার পুলিশ দিয়ে বিরোধী নেতা ও তরুণদের গ্রেপ্তার করুক, তবু তাঁরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবেন না। বরং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন। ভারতের সংবিধান রক্ষায় তাঁরা মাথা নত করবেন না বলেও জানান তিনি।
রাহুল গান্ধি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান সম্পর্কে তিনি ভালোভাবে অবগত বলেও দাবি করেন।
বিজেপি ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সমালোচনা করে রাহুল বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মূল বৈশিষ্ট্য হলো কাপুরুষতা। নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএসপ্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
**সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ**
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়ম এবং ক্ষমতাসীন বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন করছেন বিক্ষোভকারীরা।
এই দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। তবে কর্মসূচির আগে বিরোধী নেতা ও তরুণ আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিক্ষোভস্থলে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধির বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অবস্থান উঠে এসেছে।