প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা এ তথ্য জানান। তাঁদের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর ধরে যে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, সেখানেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ইনজেকশন দেওয়া হলেও তাঁর মৃত্যু হয়নি। পরে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন ক্রিস্টা পাইক। দীর্ঘ সময় গুরুতর অবস্থায় থাকার পর তাঁর জ্ঞান ফিরে আসার ঘটনায় চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, হাসপাতালের কর্মী ও আইনজীবীরা বিস্মিত হন।
আইনজীবীদের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যাঁরা প্রথমে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন এবং চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাইক।
**মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনিশ্চিত**
প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেঁচে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
বুধবার আদালতের শুনানিতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়ার্স বিচারককে জানান, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী তারিখ নিয়ে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা তাঁর জানা নেই।
ফলে হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেও ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়েছে।