সোমবার , ১২ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ভোট চুরি’র প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরবে ইন্ডিয়া জোট: মমতা

ভোট চুরি’র প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরবে ইন্ডিয়া জোট: মমতা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ভোট চুরি’র প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরবে ইন্ডিয়া জোট: মমতা

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং শিগগিরই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।


শনিবার (১০ অক্টোবর) পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মমতা।


এর আগে শুক্রবার বিরোধী জোটের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন।


ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে মমতা বলেন, ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়ে তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন।


**দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ**


দিল্লিতে আটক হওয়া এবং পুলিশের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অভিযোগ, যন্তর মন্তরে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার সময় তাঁকে ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।


মমতা জানান, সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকের আমন্ত্রণে তিনি যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বাইরে বের হওয়ার আগেই পুলিশ তাঁদের চলাচলে বাধা দেওয়ার কথা জানায়।


এরপর আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে তাঁরা বাসভবনের সামনের বাসস্টপে অবস্থান নেন। মমতার দাবি, সেখানে তিনজন করে দূরত্ব বজায় রেখে বসার পরও পুলিশ তাঁদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের বিভিন্ন থানায় ঘোরানো হয়। প্রতিটি থানায় জায়গা নেই বলে জানানো হচ্ছিল। পুরো ঘটনাটিকে অপহরণের মতো পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করেন তিনি।


শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধের সমালোচনা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, মানুষের চলাচল, বসে প্রতিবাদ করা কিংবা গণমাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরার অধিকার না থাকলে গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ কী?


**মমতার দিল্লি সফর নিয়ে বিজেপির কটাক্ষ**


এদিকে, মমতা ব্যানার্জির দিল্লি সফর এবং বিরোধীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের সমালোচনা করেছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ও সংসদ সদস্য শমিক ভট্টাচার্য।


তিনি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে বলেন, নিজেকে বাঘিনী দাবি করা মমতা এখন দিল্লিতে গিয়ে তেলাপোকা, কাঁকড়া, খরগোশ ও হরিণদের সঙ্গে জোট বাঁধছেন কেন? তাঁর দাবি, এতে কোনো রাজনৈতিক লাভ হবে না।


শমিক ভট্টাচার্য আরও দাবি করেন, আগামী ২০ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা পশ্চিমবঙ্গের সরকার পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।


ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিযোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।