বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ২০২৯ সালেও বিরোধীদের হার হবে, রাহুলকে কটাক্ষ অমিত শাহের

২০২৯ সালেও বিরোধীদের হার হবে, রাহুলকে কটাক্ষ অমিত শাহের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
২০২৯ সালেও বিরোধীদের হার হবে, রাহুলকে কটাক্ষ অমিত শাহের

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনেও বিরোধীরা পরাজিত হবে এবং জনগণের সমর্থন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রতি রয়েছে।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে অমিত শাহ বলেন, বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনীতি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। বিভিন্ন রাজ্যের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কংগ্রেসের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি রাহুল গান্ধীকে আত্মবিশ্লেষণের পরামর্শ দেন।


অমিত শাহ বলেন, রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রচারমূলক আয়োজন ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।


এসআইআর প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে প্রশ্ন করে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসের সব নির্বাচনী পরাজয়ের জন্যও কি এসআইআরকে দায়ী করা হবে? তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ২০২৯ সালের নির্বাচনে এনডিএ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বলেও তিনি দাবি করেন।


এদিকে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধীদের ডাকা আন্দোলন দিল্লিতে আরও জোরালো হয়ে ওঠে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে বিরোধী নেতারা মধ্য দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় ‘গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন।


এ কর্মসূচিতে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, সিপিআই নেতা ডি রাজা এবং সিপিআইএম নেতা এম এ বেবিসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


পরদিন মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত এক চা-চক্রেও বিরোধী নেতারা মিলিত হন। সেখানে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিষয়ে তাঁরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যেই অমিত শাহের বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।