কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে মিত্রদের সতর্কবার্তা পায়নি ইউক্রেন: জেলেনস্কি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলেনস্কি এ অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার আগে সতর্কবার্তা না পাওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণের পরই কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ট্রাম্পের আকস্মিক ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর রাশিয়া প্রথমবারের মতো জ্বালানি অবকাঠামো এড়িয়ে কিয়েভের পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। খারকিভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা অব্যাহত থাকলে কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক ইনফ্রারেড নজরদারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই এ ধরনের তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী হুমকির কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্য বা নজরদারিসংক্রান্ত বার্তা না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে তাঁরা এখনও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছেন। ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, রাশিয়ার ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার কারণে সতর্কবার্তা পেতে বিলম্ব হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সহায়তা করছে এবং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জেরে মস্কো ডিজেল রপ্তানি স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাঁর প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানো মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।