বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › জার্মানিতে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’, কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে

জার্মানিতে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’, কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জার্মানিতে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর ‘চিনি কর’, কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে

চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ব্যবহার কমাতে বিশেষ কর আরোপের পরিকল্পনা করেছে জার্মানি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে দেশটিতে চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর নতুন এই কর কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিনির পরিমাণ কমাতে উৎসাহিত করতে চায় সরকার।


জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ‘চিনি কর’ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডির হাতে আসা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানীয়তে চিনির পরিমাণ অন্তত ৫ গ্রাম হলে প্রতি লিটারে ২৬ সেন্ট কর দিতে হবে। আর চিনির পরিমাণ ৮ গ্রাম বা তার বেশি হলে প্রতি লিটারে করের পরিমাণ হবে ৩২ সেন্ট।


বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।


### ২০২৭ সালে ৬৯ কোটি ইউরো রাজস্বের লক্ষ্য


জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল এই উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর কর আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পানীয়ে চিনির পরিমাণ কমাতে উৎসাহিত হবে। এতে তুলনামূলক কম চিনিযুক্ত পানীয়ের উৎপাদন বাড়তে পারে।


সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন কর থেকে ২০২৭ সালে প্রায় ৬৯ কোটি ইউরো এবং ২০২৮ সালে ৯২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো রাজস্ব আয় হতে পারে।


তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে শুরু থেকেই মতপার্থক্য রয়েছে। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে চ্যান্সেলরের দপ্তর অর্থমন্ত্রীর আগের প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল।


রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) কয়েকজন রাজ্য পর্যায়ের নেতা এ করের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন করের ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে এবং বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ আরও বৃদ্ধি পাবে।


### চিনির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ


চিনির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও নির্দেশনা রয়েছে। সংস্থাটির সুপারিশ অনুযায়ী, সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম চিনি গ্রহণ করা উচিত। তবে স্বাস্থ্যগত সুফল বাড়াতে দৈনিক চিনির পরিমাণ ২৫ গ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ছয় চা-চামচ চিনির সমান।


জার্মানিতে দৈনিক চিনির গড় গ্রহণের পরিমাণ এই সুপারিশের চেয়ে বেশি। দেশটিতে পুরুষেরা গড়ে প্রতিদিন ৭৮ গ্রাম এবং নারীরা ৬১ গ্রাম চিনি গ্রহণ করেন। চিনির অন্যান্য উৎস যুক্ত হলে কারও কারও দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।


এ পরিস্থিতিতে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর কর আরোপকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখছে জার্মান সরকার। তবে নতুন কর কার্যকর হলে পানীয়ের দাম কতটা বাড়বে এবং উৎপাদকেরা চিনির ব্যবহার কতটা কমাবেন, তা নির্ভর করবে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ওপর।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি