১০ মাসের বেশি সময় পর ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন বিরোধী নেত্রী মাচাদো
দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’
এর আগে একাধিকবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি মাচাদো। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটল ভেনেজুয়েলার পরিবর্তিত ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে।
গত জানুয়ারিতে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধকারের মধ্যে দ্রুতগতির একটি নৌকায় করে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এর প্রায় এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সমর্থন জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রদ্রিগেজ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি তেল চুক্তিও করেন, যেখানে ওয়াশিংটনকে তুলনামূলক অনুকূল শর্ত দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভেনেজুয়েলার লারা রাজ্যের একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখা যায় মাচাদোকে। সেখানে উপস্থিত সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে ধরেন, জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান এবং হাত ধরে শুভেচ্ছা জানান।
পরে সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। পথে বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন সমর্থকেরা। রোববার গভীর রাতে কারাকাসে প্রবেশের সময় গাড়ির সানরুফ দিয়ে বেরিয়ে হাসিমুখে সমর্থকদের অভিবাদন জানান মাচাদো।
দেশে ফেরার পর এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের কারাকাসে পুনর্মিলনের রাত। প্রতিটি পরিবারের পুনর্মিলনের জন্য, প্রতিটি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির জন্য, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য।’
মাচাদোর প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানালেন গনসালেস
মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্দো গনসালেস উরুতিয়াও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে গনসালেস বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের নেত্রী, আমার প্রিয় মারিয়া কোরিনা, এখন ভেনেজুয়েলার মাটিতে।’
তিনি আরও বলেন, দিনটি ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, দেশের মানুষের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর ফিরে এসেছে এবং মাচাদো সামনে থেকে এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবেন।
মাচাদোর প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাদুরোকে ক্ষমতার বাইরে নেওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দেশে ফেরা ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।