শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ১৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ‘হুমকি নয়, অংশীদার’—ভারত সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

‘হুমকি নয়, অংশীদার’—ভারত সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

favicon
অনলাইন সংস্করণ
‘হুমকি নয়, অংশীদার’—ভারত সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ভারত ও চীনকে একে অপরকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী বা হুমকি’ নয় বরং ‘অংশীদার’ হিসেবে দেখতে হবে। সোমবার (১৮ আগস্ট) তিনি দিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এ মন্তব্য করেন।


২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর এটি দুই দেশের মধ্যে মাত্র দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ওয়াং ই জানান, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক আবার ‘সহযোগিতার ইতিবাচক ধারায়’ ফিরছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) তার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।


বৈঠকে বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা, নদীর তথ্য ভাগাভাগিসহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর বলেন, ভারত-চীন কঠিন সময় পার করে এখন সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে, ওয়াং ই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও বৈঠক করবেন, যেখানে সীমান্ত বিরোধ নিরসনের চলমান আলোচনা নিয়ে আলাপ হবে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে ‘বরফ গলানোর’ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় টহল চুক্তি করার পর থেকে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। চীন এ বছর ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের তিব্বতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, ভারতও চীনা পর্যটকদের জন্য ভিসা পরিষেবা চালু করেছে। এছাড়া সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় খোলার প্রক্রিয়াও চলছে। শিগগিরই ভারত-চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।


চলতি সফরকে আসন্ন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় সাত বছর পর মোদি চীন সফরে যাবেন এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও হতে পারে।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়েই চীনের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে ভারতের আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন। ফলে মোট শুল্ক বেড়ে ৫০%-এ দাঁড়িয়েছে, যা এশিয়ায় সর্বোচ্চ।


হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে লিখেছেন, ভারত রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে এবং রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞা ভেঙে উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। তার মতে, যদি ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত কৌশলগত অংশীদার হতে চায়, তবে সেই অনুযায়ী আচরণ করতে হবে।


বৈঠকের পর জয়শঙ্কর জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব চাই, যার মধ্যে এশিয়াও অন্তর্ভুক্ত। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।”


সূত্র: বিবিসি নিউজ, রয়টার্স