ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অভূতপূর্ব সংঘাতের আশঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে এক নজিরবিহীন সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন—সংবিধান ও ১৯১৩ সালের ফেডারেল রিজার্ভ আইনের অধীনে ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি লিসা কুককে ‘অবিলম্বে কার্যকরভাবে’ অপসারণ করছেন। অভিযোগ, কুক বন্ধকী ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তবে কুকের আইনজীবী অ্যাবে ডেভিড লোয়েল জানান, প্রেসিডেন্টের এমন কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই।
ফেডারেল রিজার্ভও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কংগ্রেস ফেডারেল রিজার্ভ অ্যাক্টের মাধ্যমে গভর্নরদের দীর্ঘমেয়াদি নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট কেবল ‘উপযুক্ত কারণ’ দেখালেই তাদের অপসারণ করতে পারেন।
এ ঘটনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারেও। মঙ্গলবার ব্যাপক হারে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ড বিক্রি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মার্কিন সরকারের ঋণ খরচ বাড়বে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়বে।
লিসা কুক ফেড বোর্ড অব গভর্নর্সের সাত সদস্যের একজন এবং সুদের হার নির্ধারণকারী ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অংশ। গত জুলাইয়ের বৈঠকে তিনি চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে একযোগে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এমন লোক দরকার যাদের সততা শতভাগ নিশ্চিত। মনে হচ্ছে, তার ক্ষেত্রে সেটা ছিল না।” তিনি আরও জানান, কুকের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজন প্রার্থী তার বিবেচনায় আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে থাকা এবং তার অর্থনৈতিক নীতি সমর্থনকারী কাউকে ফেড বোর্ডে বসাতে চাইছেন। আর এই ঘটনাপ্রবাহ ফেডের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি