চীন-পাকিস্তানকে বার্তা দিতেই ভারতের অগ্নি-ফাইভ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
শুধু পাকিস্তান নয়, চীনকেও সতর্ক করার কৌশলেই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ভারত। সম্প্রতি দেশটি সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে অগ্নি-ফাইভ ব্যালিস্টিক মিসাইলের, যা পাকিস্তানের নতুন রকেট ফোর্স ইউনিট ঘোষণার পরপরই উৎক্ষেপণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি চীনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে আঘাত হানার লক্ষ্যেও এ পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি।
গত ২০ আগস্ট অগ্নি সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন অগ্নি-ফাইভ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে ভারত। ১৭ মিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের এ ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন ৫০ হাজার কেজি। এটি এক টন পর্যন্ত ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার গতিতে ছুটে একটানা ৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
অগ্নি-ফাইভ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ আপাতদৃষ্টিতে পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল বার্তাটি পাঠানো হয়েছে চীনের উদ্দেশে। সীমান্ত উত্তেজনা ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বেইজিংকে সতর্ক করতেই ভারতের এই উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্ল্যারি বলেন,
“অগ্নি-ফাইভ ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের জন্য হুঁশিয়ারি হলেও এর মূল লক্ষ্য চীন। ভারতের জন্য প্রয়োজন ছিল দীর্ঘ-পাল্লার এমন ক্ষেপণাস্ত্র, যা দেশটির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।”
এদিকে, পাকিস্তান সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে তাদের নতুন সামরিক ইউনিট ‘আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড’ গঠনের। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির রকেট ফোর্সের আদলে গড়ে উঠবে এই ইউনিট। এর কাজ হবে ব্যালিস্টিক, হাইপারসোনিক ও ক্রুজ মিসাইলসহ বিভিন্ন পাল্লার রকেটের তদারকি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি পাকিস্তানের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
/এমএইচআর