বিদেশি অপরাধী চক্রকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
বিদেশি অপরাধী চক্রগুলোকে প্রয়োজনে ‘বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইকুয়েডর সফরে গিয়ে তিনি আরও জানান, দেশটির দুটি শক্তিশালী গ্যাং— লস লোবোস ও লস চোনেরোস—কে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে।
এ ঘোষণার আগেই যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পরিবহনের সময় এক নৌকায় হামলা চালিয়ে ১১ পাচারকারীকে হত্যা করেছে তাদের বাহিনী। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও মার্কিন পক্ষ বলছে, তারা ভেনেজুয়েলার গ্যাং ট্রেন দে আরাগুয়া-এর সদস্য। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অভিযান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে।
রুবিও জানিয়েছেন, মেক্সিকো ও ইকুয়েডর পাচারকারীদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, মাদকবিরোধী অভিযানে সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন ইকুয়েডরকে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিরাপত্তা সহায়তা এবং ৬ কোটি ডলারের ড্রোন প্রযুক্তি দেবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ কোকেন ইকুয়েডরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে প্রবেশ করে। এ কারণে দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ইতোমধ্যে গ্যাংবিরোধী অভিযানে দেশকে ‘যুদ্ধাবস্থায়’ ঘোষণা করেছেন। তিনি চান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সেনাবাহিনীও এই লড়াইয়ে অংশ নিক। এজন্য সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আবারও বিদেশি সেনা ঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র গ্যাংগুলোর সম্পদ ও সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে এবং সীমাহীন গোয়েন্দা সহায়তাও দিতে পারবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইকুয়েডরের বাড়তে থাকা সহিংসতা শুধু অভিবাসন সংকটকে তীব্র করছে না, গ্যাংগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করলে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: বিবিসি