রবিবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ফ্রান্সে আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, নতুন রাজনৈতিক সংকটে ম্যাখোঁ

ফ্রান্সে আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, নতুন রাজনৈতিক সংকটে ম্যাখোঁ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ফ্রান্সে আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, নতুন রাজনৈতিক সংকটে ম্যাখোঁ

ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পতনের মধ্য দিয়ে। জাতীয় পরিষদে আস্থা ভোটে হেরে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এখন তার মেয়াদে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।


কঠোর বাজেট নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে বায়রু নিজেই আস্থা ভোট ডাকেন। বাজেটে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়ের প্রস্তাব ছিল। তবে ভোটে ৩৬৪ জন অনাস্থা জানান এবং মাত্র ১৯৪ জন আস্থা রাখেন। এর ফলে ফরাসি সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।


এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। যদিও এখনো নাম ঘোষণা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে বাজার ও সাংবিধানিক সংকট এড়াতে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি ম্যাখোঁর ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। আন্তর্জাতিকভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে নেতৃত্ব দিলেও দেশে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ।


বামপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টি সরকার গঠনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। তাদের নেতা অলিভিয়ে ফোরের ভাষায়, “আবার বামদেরই দেশ পরিচালনা করার সময় এসেছে।” অন্যদিকে ম্যাখোঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে শোনা যাচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাথেরিন ভত্র্যাঁ বা অর্থমন্ত্রী এরিক লোম্বার্ড বিকল্প হতে পারেন। তবে সংসদে বামদের কারণে ডানপন্থীদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।


এদিকে জরিপ বলছে, ৬৪ শতাংশ ফরাসি নাগরিক চান ম্যাখোঁ নিজেই পদত্যাগ করুন। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে পদত্যাগ করবেন না। সংবিধান অনুযায়ী তিনি ২০২৭ সালের পর আর প্রার্থী হতে পারবেন না।


রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে। বামপন্থী সংগঠন "ব্লক এভরিথিং" বুধবার কর্মসূচি দিয়েছে এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর ধর্মঘট ডাক দিয়েছে।


আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচন ঘিরে অনেকেই মনে করছেন, এবার কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র‌্যালি (আরএন) দল বড় সুযোগ পেতে পারে। তবে তাদের নেতা মেরিন লে পেন ভুয়া চাকরির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় আপাতত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তার আপিলের শুনানি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হবে। যদি রায় পাল্টে যায়, তবে নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পথ আবার খুলতে পারে।


সংসদে তার সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যেই লে পেন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁকে আগাম নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, “এটি কোনো বিকল্প নয়, এটি বাধ্যবাধকতা।