সাংবাদিককে প্রশ্নে তিরস্কার, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশের হুমকি ট্রাম্পের
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন এক সাংবাদিককে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস লনে প্রশ্ন করার সময় অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির সাংবাদিক জন লায়ন্সকে তিরস্কার করেন তিনি। এমনকি আসন্ন বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের কাছে ওই সাংবাদিকের ব্যাপারে অভিযোগ করার হুমকিও দেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় লায়ন্সের করা প্রশ্ন থেকে। তিনি জানতে চান, দ্বিতীয় দফায় ওভাল অফিসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প কতটা ধনী হয়েছেন এবং তিনি কি হোয়াইট হাউসে আসা সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্ট? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না। ব্যবসা এখন আমার সন্তানরা চালাচ্ছে। আমার বেশিরভাগ চুক্তি অনেক আগেই করা।” পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে একটি নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পরে লায়ন্স প্রশ্ন করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ব্যক্তিগত ব্যবসা চালানো কতটা শোভনীয়। এ সময় ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আমি করছি না, আমার সন্তানরা করছে।” হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরো যোগ করেন, “আমার মনে হয় আপনি এখন অস্ট্রেলিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। আপনার প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই আমাকে দেখতে আসবেন। আমি তাকে আপনার ব্যাপারে জানাব।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী জিম চ্যালমার্স বলেন, “জন লায়ন্স শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও প্রশ্ন করার অধিকারকে সম্মান করতে হবে।” স্বতন্ত্র সিনেটর ডেভিড পোকক লিখেছেন, “অন্য দেশের নেতা যদি সাংবাদিককে নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে নালিশ করেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
গ্রিনস দলের সিনেটর সারাহ হ্যানসন-ইয়ং একে “মিডিয়াকে ভয় দেখানোর চেষ্টা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে লিবারেল পার্টির সিনেটর সারাহ হেন্ডারসন এবিসিকে সাংবাদিকের প্রশ্নের ধরন নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। তবে ন্যাশনালস নেত্রী ব্রিজেট ম্যাকেঞ্জি সাংবাদিকের পক্ষ নিয়ে জানান, “কঠিন প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।”
সাংবাদিক জন লায়ন্স এবিসিকে বলেন, তার প্রশ্নগুলো গবেষণার ভিত্তিতে করা ছিল এবং মোটেই অভদ্র নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি এমন প্রশ্ন করার কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়, তবে সেটা হবে এক অন্ধকার দিন।”
এদিকে, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। সেখানেই তার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের শেষের দিকেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুই নেতার মধ্যে একাধিক বৈঠক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ।