পশ্চিম তীর দখল করতে দেবেন না নেতানিয়াহুকে: ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পশ্চিম তীর দখল করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তার এই মন্তব্যকে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন নেতানিয়াহু। তার ভাষণের আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলে নিতে দেব না…এরকম কিছুই হবে না।”
তিনি আরও জানান, গাজা বিষয়ে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “অনেক হয়েছে। এখন থেমে যাওয়ার সময় এসেছে।” আগামী সোমবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে ইসরায়েল
টাইমস অব ইসরায়েলকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি পশ্চিম তীর দখলের নেতিবাচক পরিণাম নিয়ে ইসরায়েলকে হুশিয়ারি দিয়েছিল। তবে তেলআবিব সে সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। বিষয়টি নিয়েই সোমবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ থামাতে চাপ বাড়ছে
গাজা যুদ্ধ বন্ধে বৈশ্বিক চাপের মুখে রয়েছে ইসরায়েল। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ব্রিটেন ও জার্মানি পশ্চিম তীর দখল নিয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ইসরায়েলি কার্যক্রমকে “নৈতিক, আদর্শগত ও রাজনৈতিকভাবে অসহনীয়” বলেছেন।
মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্য
এদিন ভিডিও লিঙ্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় ৮৯ বছর বয়সী আব্বাস নিউইয়র্ক ভ্রমণ করতে পারেননি।
তিনি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একইসঙ্গে স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর গাজা উপত্যকার পূর্ণ দায়িত্ব নেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র।
সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইসরায়েল