ট্রাম্পের মামলায় ইউটিউবের ২৪.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা এক মামলার নিষ্পত্তিতে ইউটিউব ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে। ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার পর ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করায় এ মামলা হয়েছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউটিউবের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ২২ মিলিয়ন ডলার ন্যাশনাল মল ট্রাস্টকে দান করবে। অলাভজনক এ সংস্থা হোয়াইট হাউসে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বলরুম নির্মাণ প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছে। বাকি ২.৫ মিলিয়ন ডলার যাবে অন্যান্য বাদীর কাছে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন ও লেখিকা নাওমি উলফ।
তবে ইউটিউব কোনো দায় স্বীকার করেনি। তারা জানিয়েছে, এই অর্থ প্রদান কেবল বিতর্ক মেটাতে এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য। কোম্পানির কাছে এটি তুলনামূলকভাবে ছোট অঙ্ক, কারণ শুধু ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের বিজ্ঞাপন আয়ই ছিল প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার পর তাকে অন্যায়ভাবে সেন্সর করা হয়েছে। একই কারণে মেটা ও এক্সও এর আগে বহুমিলিয়ন ডলারের সমঝোতা করেছে।
গত বছর প্যারামাউন্ট গ্লোবাল ট্রাম্পের আরেক মামলায় ১৬ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়। এছাড়া এবিসি নিউজও গত ডিসেম্বরে মানহানির অভিযোগ মেটাতে ১৫ মিলিয়ন ডলার দেয়।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিমোথি কোস্কি বলেন, ইউটিউবের এ সমঝোতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট মডারেশনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার মতে, এতে স্পষ্ট হচ্ছে—কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিলে নিয়মকানুন সবসময় সমানভাবে প্রযোজ্য হয় না।
তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন এ ধরনের ব্যতিক্রমী আচরণ করে, তখন তা বৈশ্বিকভাবে অনেক দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।