ট্রাম্প হুঁশিয়ারি: হামাস অস্ত্র না ছাড়লে “আমরাই তাদের নিরস্ত্র করবো”
মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যদি অস্ত্র না ফেলে, তবে “আমরাই তাদের নিরস্ত্র করবো।” গাজা যুদ্ধবিরতিচুক্তি উদযাপনের একদিন পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “তারা জানে আমি খেলা খেলছি না। এটা খুব দ্রুত হবে এবং সম্ভবত সহিংসভাবেই।”
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি হামাসকে জানিয়েছেন—“তোমরা নিরস্ত্র হবে,” এবং হামাস উত্তরে জানিয়েছে, “জি স্যার, আমরা নিরস্ত্র হবো।” তিনি যোগ করেন, এই বার্তাটি তিনি সরাসরি না পাঠিয়ে “আমার লোকদের মাধ্যমে” পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেননি যে, হামাসকে নিরস্ত্র করতে কারা অংশ নেবে বা এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জড়িত থাকবে কি না।
এদিকে হামাস এখনও অস্ত্র ছাড়তে রাজি হয়নি—যা ট্রাম্পের ২০ ধাপের যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো, হামাস সোমবার ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিলেও এখনো তাদের হেফাজতেই রয়েছে ২৪ জন মৃত জিম্মির মরদেহ; ওইদিন হামাস চারটি মরদেহ ফেরত দেয়। ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি অবশিষ্ট মরদেহ ফেরত না দেওয়া হয় তবে গাজায় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প তার মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ লিখেছেন, “সব ২০ জন জীবিত জিম্মি ফিরে এসেছে... এক বিশাল বোঝা নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “মৃতদের মরদেহ প্রত্যাশার মতো ফেরত দেওয়া হবে নি—দ্বিতীয় ধাপ এখনই শুরু হচ্ছে!!!”
মধ্যপ্রাচ্য সফরে ট্রাম্প একটি “নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক ভোর” ঘোষণা দেন এবং আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিচুক্তি চূড়ায় আনার উদ্দেশ্যে যৌথ ঘোষণা বোধ করেন। একই সময়ে গাজার একটি হাসপাতালে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ৪৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
সূত্র: আলআ্যারাবিয়া।