পাকিস্তানে পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পোলিও টিকা কর্মীদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবারের এই হামলাটি টানা দুই দিনের মধ্যে পোলিও টিকা টিমকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
পাকিস্তান এখনো বিশ্বের দুটি দেশের একটি, যেখানে পোলিও ভাইরাস স্থানীয়ভাবে বিদ্যমান। আফগানিস্তান অপর দেশটি। গত এক দশকে দেশটিতে জঙ্গিদের হামলায় শত শত পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন, যা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক হামলাটি ঘটে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের নওশেরা জেলায়, যেখানে দেশব্যাপী ৪ কোটি ৫০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পোলিও টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিন চলছিল।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিলাল খান জানান, দুজন সশস্ত্র হামলাকারী পোলিও টিমের নিরাপত্তায় থাকা এক পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন, তবে টিকা টিমের কেউ হতাহত হননি।
হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’, যা পাকিস্তানি তালেবানের একটি স্থানীয় শাখা হিসেবে পরিচিত।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পাকিস্তানে পোলিও সংক্রমণের সংখ্যা ৬ জন থেকে বেড়ে ৭৪ জনে পৌঁছেছে, আর এ বছর এখন পর্যন্ত ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮ জনই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলিও একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস, যা সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত করে এবং আজীবন পঙ্গুত্ব ডেকে আনতে পারে। অথচ এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব মাত্র কয়েক ফোঁটা ওরাল ভ্যাকসিনের মাধ্যমে।
তবে পাকিস্তানের অনেক গ্রামীণ অঞ্চলে টিকা নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা এখনো প্রচলিত। অনেকে মনে করেন, এটি মুসলমানদের সন্তান ধারণ ক্ষমতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র।
উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগেই পাকিস্তান সরকার মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে, যা একইভাবে ভ্রান্ত ধারণার কারণে বাধার মুখে পড়েছে।