রবিবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে লাখো মানুষের ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে লাখো মানুষের ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে লাখো মানুষের ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ—‘নো কিংস’ নামে আন্দোলনে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মূল বার্তা ছিল, “যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা বা একনায়ক শাসন চলবে না।”


শনিবার দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এটি চলতি বছরের জুনে আয়োজিত ঐতিহাসিক আন্দোলনের দ্বিতীয় সংস্করণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম গণপ্রতিবাদে পরিণত হয়েছে।


বিক্ষোভে ছোট-বড় শহর, নগর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ ব্যানার, স্লোগান, বাদ্যযন্ত্র ও প্রতীক নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। কেউ বিশাল ব্যানারে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রস্তাবনা লিখে তাতে স্বাক্ষর করেন, কেউ বা ব্যাঙের মতো ফোলানো পোশাক পরে আসেন—যা প্রথমে ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।


‘ইনডিভিজিবল’ সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেন, “আমরা এখন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন করে দৃঢ়তা দেখতে পাচ্ছি। এই মুহূর্তে তাদের করা সবচেয়ে বড় ভুল হবে আত্মসমর্পণ করা।”


শিকাগোর গ্রান্ট পার্কে অন্তত ১০,০০০ মানুষ জড়ো হন; পরে স্থানীয় গণমাধ্যম শিকাগো ট্রিবিউন জানায়, উপস্থিতির সংখ্যা এক লক্ষ ছাড়িয়েছে। জনতার হাতে ছিল ট্রাম্পবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেডারেল সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনামূলক পোস্টার।


ইলিনয়ের প্রতিনিধি জোনাথন জ্যাকসন মঞ্চে উঠলে ভিড় একযোগে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে ফেটে পড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭২ বছর বয়সী গিনি এসচব্যাক জানান, ট্রাম্পের অভিষেকের পর থেকে এটি তার ৪২তম বিক্ষোভ। এবার তিনি স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টসের পোশাক পরে অংশ নেন, কারণ ব্যাঙের পোশাক আর পাওয়া যায়নি।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি—ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন, অভিবাসন কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধি ও ভিন্নমত দমন—এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ। তবে শহরগুলো এসবের বিরুদ্ধে আইনি ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।


‘নো কিংস’ আন্দোলন তাই এক প্রতীকী বার্তা দিচ্ছে—আমেরিকা কোনো রাজা বা একনায়কের জন্য নয়, এটি গণতন্ত্রের জন্য গড়ে উঠেছিল এবং গণতন্ত্রের জন্যই টিকে থাকবে।