পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত: ইস্তাম্বুলে তুরস্ক-কাতারের মধ্যস্থতায় সমঝোতা
অবশেষে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইস্তাম্বুলে পাঁচ দিনের বৈঠক শেষে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশের মধ্যে নতুন এই চুক্তি হয়। আলোচনাটি প্রথমে কাতারের দোহায় শুরু হয়ে পরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৩০ অক্টোবর সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল।
বৈঠকে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে তুরস্ক ও কাতার। আলোচনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ২৯ অক্টোবর থেকে পুনরায় আলোচনায় বসে উভয় পক্ষ এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “সকল পক্ষই শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। চুক্তি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর শাস্তি আরোপ করা হবে।” এছাড়া ৬ নভেম্বর ইস্তাম্বুলে আবার বৈঠক হবে, যেখানে এই চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদও এক বিবৃতিতে জানান, উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ বেড়ে যায়। চলতি মাসের শুরুতে কাবুলে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান, যার জেরে পাল্টা হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২০০-র বেশি আফগান সেনা ও ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) ইস্যু নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও আফগানিস্তান তা অস্বীকার করেছে।
তুরস্ক ও কাতার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।
Sources: রয়টার্স, জিও নিউজ