তাইওয়ান মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চীন–জাপান সম্পর্কে দ্রুত অবনতি, বাড়ছে উত্তেজনা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক তাইওয়ান সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। চীন দাবি করে, গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ান তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড, এবং তাকাইচির বক্তব্যকে বেইজিং ‘উসকানি’ হিসেবে দেখছে। পরপর নেওয়া কড়া পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
২০ নভেম্বর চীন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রীদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। এর আগের দিন জানানো হয়, জাপানি সামুদ্রিক খাবারের আমদানির শর্ত ‘অপর্যাপ্ত’—ফলে আংশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কিছুদিন পরই আবার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দেয় বেইজিং। পাশাপাশি জাপান থেকে গরুর মাংস আমদানির আলোচনা স্থগিত করা হয়।
চীন সতর্ক করেছে, জাপান যদি তাইওয়ান বিষয়ক মন্তব্য প্রত্যাহার না করে, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বেইজিংয়ে ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক বৈঠকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। চীন আবার মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়, আর জাপান বলে—তাকাইচির বক্তব্য তাদের দীর্ঘদিনের নীতিরই ধারাবাহিকতা। পাশাপাশি তারা চীনে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানায়।
এর আগের দিন, ১৭ নভেম্বর, চীনা পরিবেশকরা অন্তত দুটি জাপানি চলচ্চিত্রের প্রদর্শন বাতিল করে। একই দিনে চীন ঘোষণা করে, দক্ষিণ আফ্রিকার জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন না।
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে ১৬ নভেম্বর থেকে। বেইজিং জাপানে পড়তে যাওয়া বা সেখানে অবস্থানরত চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। একই দিনে জাপান নিয়ন্ত্রিত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ দেখা যায়।
১৫ নভেম্বর তিনটি চীনা এয়ারলাইনস জাপানগামী যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন বা রিফান্ডের সুযোগ দেয়। ১৪ নভেম্বর চীন সতর্কবার্তা দেয়—তাইওয়ান নিয়ে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। একই দিনে জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় ওসাকার চীনা কনসাল জু জিয়ানকে, তার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে।
১৩ নভেম্বর চীন তাকাইচির মন্তব্যকে ‘বিকৃত ও গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের তীব্র দাবি তোলে এবং পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয়। এর আগেই, ১২ নভেম্বর, চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাকাইচির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
১০ নভেম্বর বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে তাকাইচির বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানায়। যদিও একই দিন তাকাইচি বলেন, তার বক্তব্য ছিল ‘কাল্পনিক পরিস্থিতি’ ভিত্তিক এবং ভবিষ্যতে সংসদে এমন মন্তব্য থেকে তিনি বিরত থাকবেন।
সমস্ত উত্তেজনার সূত্রপাত ৭ নভেম্বর—যেদিন জাপানি সংসদে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে তা জাপানের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে জাপান সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এরপর থেকেই চীনের প্রতিক্রিয়া ক্রমাগত তীব্র হয়ে ওঠে।