রবিবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ১৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › চীনের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে জাপানকে ট্রাম্পের আহ্বান

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে জাপানকে ট্রাম্পের আহ্বান

favicon
অনলাইন সংস্করণ
চীনের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে জাপানকে ট্রাম্পের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই জাপানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


সম্প্রতি জাপানের পার্লামেন্টে তাকাইচি বলেছেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, জাপান সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে। তার এই মন্তব্যে বেইজিংয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে অচলাবস্থায় পড়ে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপানি কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার ট্রাম্প–তাকাইচির ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। তবে তিনি কোনো মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি বা চাপ দেননি। জাপান সরকারের পক্ষ থেকেও ওই মন্তব্য প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।


এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান জাপানের মন্ত্রিসভার প্রধান সচিব মিনোরু কিহারা।


টোকিওর নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি রক্ষা করতে ট্রাম্প হয়তো তাইওয়ান ইস্যুতে নরম অবস্থান নিচ্ছেন, যা জাপানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজুহিরো মায়েজিমা বলেন, “ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক; জাপানকে অনেক সময়ই সেই সম্পর্ক পরিচালনার একটি ‘কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।”


ট্রাম্প–তাকাইচির কথোপকথনের ঠিক আগেই ট্রাম্প কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে। শি বলেন, বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাইওয়ানের চীনে প্রত্যাবর্তন একটি মূল লক্ষ্য। তবে স্বাধীনভাবে পরিচালিত তাইওয়ান জানায়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদের জনগণেরই।


হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক বর্তমানে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’, যা জাপানের জন্যও ‘সুখবর’। ট্রাম্প বলেন, “জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমরা চমৎকার বাণিজ্যচুক্তি করেছি। বিশ্ব শান্তিতে রয়েছে—এভাবেই চলুক।”


এদিকে চীনা সরকারি পত্রিকা পিপলস ডেইলি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়, জাপানকে ‘আবার সামরিকতাবাদী পথে’ যেতে সহায়তা না করতে। চীন মনে করছে, তাকাইচির বক্তব্য জাপানের দীর্ঘদিনের ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি থেকে সরে আসা।


জাপানের কর্মকর্তারা বলছেন, তাকাইচি তার মন্তব্য প্রত্যাহার করবেন না—ফলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টোকিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত অবশ্য জাপানের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং চীনের ‘জবরদস্তি’ আচরণের সমালোচনা করেছেন।


তবে জাপানের ক্ষমতাসীন দলের দুই জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মনে করছেন, ট্রাম্পের নির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় টোকিওর উদ্বেগ আরও বাড়ছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আপাতত চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে বেশি মনোযোগী এবং আগামী এপ্রিলের বেইজিং সফরের আগে বড় কোনো উত্তেজনা চান না।