গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট, উৎপাদন ৪–৫ হাজার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কার্যক্রম, বাজেট বরাদ্দ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট এবং প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকেরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন। এ ছাড়া, ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্নসংবলিত লিখিত নথি উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রশ্নের উত্তরসহ পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত অংশ নেন।