চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ট্র্যাজেডি: রাজ্য সরকারকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আদেশ
আইপিএলে প্রথম শিরোপা জয়ের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে উদ্যাপন চলাকালে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন, আহত হন অন্তত ৫০ জন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ও চাপের মুখে ছিল কর্ণাটক রাজ্য সরকার। তবে সোমবার কর্ণাটক হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে নির্দেশ দিয়েছে—এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
সরকারের গোপনীয়তা বজায় রাখার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত জানায়, “এটি শুধুমাত্র সরকারের উপলব্ধি করা ঘটনা; এগুলো গোপন রাখার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।”
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে তদন্ত প্রতিবেদন আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি, কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএসসিএ), এবং ইভেন্ট পার্টনার ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কস-এর কাছেও জমা দিতে হবে।
সূত্র জানায়, সিআইডি’র তদন্ত এখনও চলছে এবং গত এক মাসে আরসিবি ও ডিএনএর শীর্ষ কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিয়েছেন।
এদিকে, ৪ জুনের পর থেকে আরসিবির কোনো সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট আসেনি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনো সিআইডির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষা করছেন।
তবে এই মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিন এখনও নির্ধারিত হয়নি।
জুলাইয়ের শুরুতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে উদ্যাপন প্যারেডের ঘোষণা দেওয়ার পর ৩ থেকে ৫ লাখ মানুষ স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হন। আগাম পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও প্রস্তুতি বা অনুমতি ছাড়া এমন জনসমাগম আয়োজন করাকে ট্রাইবুনাল ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ ও ‘জনসাধারণের জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছে।
এই ঘটনার জেরে বেঙ্গালুরু পুলিশের আইজি বিকাশ কুমারসহ পাঁচজন কর্মকর্তাকে ‘দায়িত্বে গাফিলতির’ অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। বিকাশ কুমার ট্রাইবুনালে ন্যায়বিচারের আবেদন জানালে তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়।
ঘটনার পর আরসিবি ‘আরসিবি কেয়ার্স’ নামে একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এছাড়াও, রাজ্য সরকার নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলেও বহু ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, তাঁরা এখনো যথাযথ সহায়তা পাননি।
এই ঘটনার পর আরসিবির শিরোপা জয় যেন আনন্দ নয়, বরং স্মরণীয় এক বেদনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।