শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমখেলাচ্যাম্পিয়ন হয়েও নকআউট পর্বে ২০ বছর অনুপস্থিত ইতালি

চ্যাম্পিয়ন হয়েও নকআউট পর্বে ২০ বছর অনুপস্থিত ইতালি

favicon
অনলাইন সংস্করণ
চ্যাম্পিয়ন হয়েও নকআউট পর্বে ২০ বছর অনুপস্থিত ইতালি

২০০৬ সালের ৯ জুলাই, বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১৮তম ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। কিন্তু সেই গৌরবময় রাতের পর থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে এক অদ্ভুত অনুপস্থিতি শুরু হয় ইউরোপিয়ান পরাশক্তি এই দলের।


এখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতালির দীর্ঘ অনুপস্থিতি। ২০০৬ ফাইনালের পর থেকে ২০১০ ও ২০১৪ সালের দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ইতালি। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে মূল পর্বেই কোয়ালিফাই করতে পারেনি তারা। অর্থাৎ, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে পরবর্তী কোনো নকআউট ম্যাচে তাদের দেখা মেলেনি।


এই দীর্ঘ বিরতি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নজিরবিহীন নয়, তবে অন্য চ্যাম্পিয়নদের মতো এত দীর্ঘ হয়নি। ফ্রান্স (২০০2), স্পেন (2014), জার্মানি (2018) – সবাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরে গ্রুপে ছিটকে পড়েছিল। কিন্তু ইতালির মতো বারবার গ্রুপেই আটকে থাকা এবং পরপর দুটি আসরে অংশ নিতে না পারার ইতিহাস অন্য কারও নেই।


২০২৬ বিশ্বকাপে যদি ইতালি সুযোগ পায় এবং গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে পৌঁছায়, তাহলে তা হবে প্রায় ২০ বছর পর। কারণ ২০২৬ আসরের নকআউট শুরু হবে ২৯ জুন থেকে—২০০৬ সালের ফাইনালের ১০ দিন কম ২০ বছর পর।


তবে, এর চেয়েও ভয়াবহ ইতিহাস রয়েছে ইতালির। ১৯৩৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৫০ বিশ্বকাপ বাতিল হয় বা আংশিক হয়। এরপর তারা ১৯৫০, ৫৪, ৫৮, ৬২ ও ৬৬ সালের আসরে ব্যর্থ হয় নকআউট পর্বে উঠতে। এমনকি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে তারা কোয়ালিফাইও করতে পারেনি।


অবশেষে, ১৯৭০ সালে দীর্ঘ ৩২ বছর পর তারা নকআউটে ফিরতে পারে এবং সেবার রানার্সআপ হয়। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই ফাইনালে হারে ইতালি, যেখানে পেলে জিতে নেন তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।


সর্বশেষ, ২০১৪ সালের ২৪ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে ইতালির শেষ ম্যাচ। এরপর তারা আর বিশ্বকাপ মঞ্চেই নেই।


আজও তাই ইতালির সমর্থকরা তাদের দলকে খুঁজে ফেরেন বিশ্বকাপের সেই উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট পর্বে, যেখানে এক সময় তারা ছিলেন ভয়ংকর এক শক্তি।