রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গণগ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ, ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ
রাশিয়ায় একাধিক প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও আলেমকে আটক করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত আটজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন কারেলিয়া অঞ্চলের সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল, মর্দোভিয়ার মুফতি রয়াল আসেনভ এবং সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহ।
সরকারি সূত্রে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হলেও, বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পেছনে মূল কারণ হিসেবে একটি বিতর্কিত নতুন আইনকে দেখা হচ্ছে, যেখানে আবাসিক ভবনে যৌথভাবে নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই আইনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার মুসলিম ধর্মীয় বোর্ড (ডিইউএম) সরাসরি আপত্তি জানিয়েছিল।
ডিইউএম প্রধান রাভিল গাইনুতদিন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চিঠি দিয়ে আইনটির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মসজিদের অভাবে এমন আইন মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবাদের পরই আলেমদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু হয়।
এদিকে রাশিয়ার উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই গ্রেপ্তারকে সমর্থন জানালেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চাপ হিসেবে দেখছে।
রাশিয়ায় প্রায় দুই কোটি মুসলিম বসবাস করেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশটির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।