বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন ২০২৬
হোমবিচিত্রবাংলাদেশে বছরে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাংলাদেশে বছরে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বাংলাদেশে বছরে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার দিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন এমন তাপ-আর্দ্রতার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।


বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশে বছরে গড়ে ১৭৫ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলেও ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে ২০০ দিনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে বসবাস করছে।


গবেষণা অনুযায়ী, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ৩০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা যুক্ত হচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ দিন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এ ধরনের দিনের হার ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।


দেশের বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। রাজধানী ঢাকায় বছরে গড়ে ২১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা অনুভূত হয়, যার মধ্যে ২৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত। চট্টগ্রামে এই সংখ্যা ২১১ দিন এবং খুলনায় সবচেয়ে বেশি ২২৪ দিন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি নয়, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও মানবদেহের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ঘামের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে পানিশূন্যতা, তাপজনিত অবসাদ, হিট স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বাড়তে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, বাইরে কর্মরত শ্রমিক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।


কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. শিমুল মজুমদার জানান, বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতার কারণে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং অ্যাজমার মতো রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় অ্যাজমা ও সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


এদিকে গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী গরমের সময় মানুষ বেশি পানি পান করলেও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পানির উৎস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।


বিশ্বব্যাপী চরম তাপমাত্রা এখন অন্যতম প্রাণঘাতী আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বে চরম তাপমাত্রাজনিত কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মসূচি শক্তিশালী করা, শ্রমিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নগর এলাকায় শীতলীকরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।