ভুল প্রতিবেদনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করল সিপিডি
ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনই ছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম প্রধান শিক্ষা। বর্তমান বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটেছে, তা থেকে উত্তরণে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করবেন। ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০৩০ সালের আগেই দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়কে মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস : একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সিপিডি। প্রতিবেদনের ১১ নম্বর স্লাইডে শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক অধ্যায়ে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মহীন হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সিপিডির ওই তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে তথ্যটি যাচাই করতে গিয়ে সিপিডি বুঝতে পারে, এতে ভুল রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিপিডি জানায়, উপস্থাপনায় ব্যবহৃত তথ্যটি গত ২২ আগস্ট ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্যটির মূল উৎস যাচাই করা হয়নি।
পরবর্তীতে দেখা যায়, ঢাকা ট্রিবিউনের ওই প্রতিবেদনটি নতুন কোনো তথ্য নয়। সেটি ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের তথ্য হিসেবে পুরোনো তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
সিপিডি বলেছে, ‘অসাবধানতাবশত বিভ্রান্তি সৃষ্টির ফলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে তাদের গবেষণা দল আরও সতর্ক থাকবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।