বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমমতামতলোডশেডিং নিয়ে ইউনূস-ফাওজুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

লোডশেডিং নিয়ে ইউনূস-ফাওজুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
লোডশেডিং নিয়ে ইউনূস-ফাওজুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

দেশের বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতির জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের নীতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান সরকারকে সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে।


আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এ খাতে আগের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।


ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে নিয়োগ দেন। তিনি এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা যাচাই এবং অচল কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের কথা বলেছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ নিষ্ক্রিয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি। একই সময়ে ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত বিশেষ বিধান আইনের আওতায় নেওয়া প্রকল্প ও চুক্তিগুলোও পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।


প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ বকেয়া জমা হয়। কয়লা ও গ্যাস আমদানি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন খাতে বকেয়া রেখে যাওয়ার কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ পরিশোধের চাপের মুখে পড়ে। অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।


এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২৭টি সৌরবিদ্যুৎ, তিনটি বায়ুবিদ্যুৎ এবং একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্প ছিল।


পরবর্তীতে ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৫৫টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। ১১টি প্রকল্পের জন্য দরপত্র জমা পড়ে, যেগুলোর মোট সক্ষমতা ছিল প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট। বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে সার্বভৌম গ্যারান্টি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সংকটের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে বাতিল হওয়া ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৩১টির সম্মতিপত্র বা এলওআই পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।


প্রতিবেদনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করলেও রামপাল প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি।


এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলএনজি আমদানিসংক্রান্ত একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি সইয়ের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে এই চুক্তিকে জ্বালানি খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ছিল। এর মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।


বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর প্রভাব বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর পড়ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।


প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চাপ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাবেক উপদেষ্টা বা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।