বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
বুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাবাংলাদেশের কি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত?

বাংলাদেশের কি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত?

favicon
মোঃ মেহেজিয়ার মেহদি (ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ )
বাংলাদেশের কি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত?

আধুনিক যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রচলিত পদ্ধতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও নগদবিহীন অর্থনীতির ধারণা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড, কিউআর কোড এবং অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বাড়ছে।


সহজভাবে বলা যায়, যেখানে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হয়, সেটিই নগদবিহীন লেনদেন। উদাহরণ হিসেবে, বাজারে কেউ পণ্য কেনার পর নগদ টাকা না দিয়ে বিকাশ, নগদ বা কিউআর কোডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে সেটি নগদবিহীন লেনদেনের উদাহরণ।


অর্থনীতিবিদদের মতে, নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কারণ ডিজিটাল লেনদেন অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমিয়ে আনে।


বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে কয়েক মুহূর্তেই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠছে।


নগদবিহীন অর্থনীতি সরকারের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল লেনদেন সহজে অনুসরণ করা যায় বলে অর্থের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। এতে কর ফাঁকি, অবৈধ লেনদেন ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সরকার আরও কার্যকরভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে পারে।


তবে নগদবিহীন অর্থনীতিতে পুরোপুরি যেতে হলে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ও ডিজিটাল জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। দেশের সব অঞ্চলে এখনো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


এ ছাড়া সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন সবার জন্য সহজলভ্য নয়। অনেক মানুষের কাছে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত। ডিজিটাল প্রতারণা, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।


তাই বাংলাদেশে নগদবিহীন অর্থনীতির প্রসার ঘটাতে হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক জ্ঞান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নিরাপদ লেনদেন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


সবশেষে বলা যায়, নগদবিহীন অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।