বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও দুজন করে কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আভিভা ফাইন্যান্সে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক আলাউদ্দীন হোসেন। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে পরিচালক সাদেকুর রহমান, এফএএস ফাইন্যান্সে পরিচালক আতাউর রহমান এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন।
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে পিপলস লিজিং ছাড়া চারটিতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। পিপলস লিজিংকে ঘিরে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আদেশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতেও প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসকদের প্রধান দায়িত্ব হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়নপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
### খেলাপি ঋণ প্রায় শতভাগ
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি, পিপলস লিজিংয়ে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
### আরও চার প্রতিষ্ঠানকে সময়
গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লাইসেন্স বাতিল না করার কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
পরে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টিকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বাছাই করা হয়। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্তভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাকি চার প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে ব্যর্থ হলে ওই চার প্রতিষ্ঠানও বন্ধের প্রক্রিয়ায় যেতে পারে।
ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।