শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমজাতীয়লন্ডনে সালমান এফ রহমানের ছেলের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ

লন্ডনে সালমান এফ রহমানের ছেলের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
লন্ডনে সালমান এফ রহমানের ছেলের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমানের লন্ডনের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। যুক্তরাজ্যে দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জব্দ হওয়া সম্পত্তির একটি ২০১০ সালে কেনা হয় ৬৫ লাখ পাউন্ডে (১০৬ কোটি টাকা), যা লন্ডনের অভিজাত ১৭ গ্রোসভেনর স্কয়ারে অবস্থিত। আরেকটি ১২ লাখ পাউন্ডে (সাড়ে ১৯ কোটি টাকার বেশি) কেনা হয় গ্রেশাম গার্ডেনসে।

যুক্তরাজ্যের নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গ্রেশাম গার্ডেনসের অ্যাপার্টমেন্টে এক সময় বসবাস করেছেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। তবে তিনি এখন সেখানে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের মা।

এনসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের দুটি অ্যাপার্টমেন্টের ফ্রিজিং অর্ডার পেয়েছি। আপাতত এর বেশি কিছু জানানো যাচ্ছে না।” এই আদেশের ফলে ওই সম্পত্তিগুলো বিক্রি বা ব্যবহারের সুযোগ নেই।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিগুলো আইল অফ ম্যান–এর মতো অফশোর অঞ্চলে নিবন্ধিত কোম্পানির মাধ্যমে কেনা হয়েছিল।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে শায়ান এফ রহমান দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন তালিকায় রয়েছেন।

তবে শায়ান রহমানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমাদের মক্কেল সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করছেন। যুক্তরাজ্যে কোনো তদন্ত হলে তিনি সহযোগিতা করবেন।”

মুখপাত্র আরও বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এ অবস্থায় বহু মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আশা করি, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনায় নেবে।”

এই বিষয়ে শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেখ হাসিনা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পুলিশ, গণমাধ্যম ও বিচারব্যবস্থা সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠান পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

গত বছরের গণ–অভ্যুত্থানের পর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আহসান এইচ মনসুরকে নিযুক্ত করেছেন অর্থ আত্মসাৎ তদন্তের দায়িত্বে। ইতোমধ্যে কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং বিদেশি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তদন্ত চলছে।

এদিকে, নতুন সরকারের উদ্যোগে শেখ হাসিনার ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও দুর্নীতি তদন্তে নাম আসায় বিতর্কে জড়িয়েছেন। যদিও তিনি অনিয়ম অস্বীকার করেছেন, তবুও চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ‘সিটি মিনিস্টার’ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।অধ্যাপক ইউনূসের সরকার সম্প্রতি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে, যাকে দলটির সমর্থকেরা রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন।