স্মৃতি মান্ধানা–পলাশ মুচ্ছলের বিয়ে স্থগিত, গুজব নিয়ে মুখ খুললেন কোরিওগ্রাফার নন্দিকা
ভারতীয় নারী ক্রিকেট তারকা স্মৃতি মান্ধানা ও সঙ্গীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল গত ২৩ নভেম্বর। কয়েকদিন ধরেই তাদের বিয়ে ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনা ছিল চরমে। তবে হঠাৎ করেই একের পর এক জটিলতা দেখা দেয় এবং দুই পরিবারই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিয়ের সব আয়োজন আপাতত স্থগিত রাখা হয়।
বিয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে স্মৃতিকে নাকি পলাশ প্রতারণা করেছেন। আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন বিয়ের কোরিওগ্রাফার নন্দিকা দ্বিবেদী।
অবশেষে নীরবতা ভেঙে নন্দিকা জানান, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমার নামে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে তার কোনো সত্যতা নেই। আমি কাউকে ‘টার্গেট’ করিনি এবং কোনো সম্পর্ক ভাঙার সঙ্গেও আমার যোগ নেই। বিষয়টি আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।” তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে তিনি হুমকির বার্তাও পাচ্ছেন, তাই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্মৃতির বাবার অসুস্থতার কারণে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবারের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। কিন্তু এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে, পলাশের নাকি কোরিওগ্রাফার নন্দিকার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সেই অভিযোগ ভাইরাল হতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয় স্মৃতি মান্ধানার ইনস্টাগ্রাম থেকে সব প্রি-ওয়েডিং পোস্ট মুছে ফেলা। এমনকি তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীও পলাশকে ‘আনফলো’ করেন, যা গুজবকে আবারও তীব্র করে তোলে।
আরেক কোরিওগ্রাফার গুলনাজ খান বলেন, তারা কেউই পলাশ বা স্মৃতির ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেননি। অযথা গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল না করার অনুরোধ জানান তিনি।
এর মধ্যেই ‘মেরি ডি’কস্তা’ নামে এক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে রেডিটে পলাশের কথিত ব্যক্তিগত চ্যাটের কিছু স্ক্রিনশট পোস্ট করা হয়। যদিও অ্যাকাউন্টটি দ্রুত ডিঅ্যাকটিভেট করা হয়েছে, স্ক্রিনশটগুলো ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
তবে পলাশ ও স্মৃতির পরিবার এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়। পলাশের বোন পলক মুচ্ছল শুধু বলেন, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়, দয়া করে গোপনীয়তা সম্মান করুন।”
সব মিলিয়ে, পরিবারগুলো এখনো দাবি করছে—শুধুমাত্র পারিবারিক কারণেই বিয়ে স্থগিত করা হয়েছে; গুজবের কোনো ভিত্তি নেই।