শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের


ইরানের জব্দ করা অর্থ শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের নিজস্ব সম্পদ। তাই অর্থ ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিকভাবে মার্কিন ডলারের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে।


ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে। তবে সেই অর্থের মালিক ইরান এবং একসময় তা ফেরত দেওয়া প্রয়োজন হবে।


তিনি বলেন, “এটি আমাদের অর্থ নয়। এটি ইরানের অর্থ। আমরা একসময় তা জব্দ করেছিলাম। যদি আমরা এই অর্থ ফেরত না দিই, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ ডলারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না।”


ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। চুক্তির আওতায় সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।


তিনি বলেন, ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না। বরং ইরান ইতিবাচক আচরণ করলে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখালে সেই বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “আমরা কোনো অর্থ দিচ্ছি না। সবকিছু নির্ভর করবে ইরান ভবিষ্যতে কীভাবে আচরণ করে তার ওপর।”


তিনি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।


এদিকে প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।