শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
শনিবার , ২০ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বযুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে সই, এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে সই, এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে সই, এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষা


মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রতিনিধি।


জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।


চুক্তি স্বাক্ষরের পর ম্যাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ইরানের পক্ষ থেকেও চুক্তিতে সই করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর চূড়ান্ত খসড়ায় দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেছেন। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে।


চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে। এ সময়ের মধ্যে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।


সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।


চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


অন্যদিকে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। এ সময় জাহাজগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ফি নেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রায় ১১০ দিন ধরে চলা সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই চুক্তি। গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত বেড়ে গিয়েছিল।


বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।