বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে অনন্য কীর্তি, প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিন ফাইনালে মেসি
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু শিরোপার লড়াইয়েই নয়, ইতিহাসের পাতাতেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় ইউরোপের দলটি। তবে শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান, আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেদের ফাইনালের টিকিট।
এই জয়ের ফলে আগামী ২০ জুলাই ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী মেসি গড়েছেন বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড। তিনিই প্রথম অধিনায়ক, যিনি তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তুলেছেন।
এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালেও মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে রানার্সআপ হলেও ২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে লাতিন আমেরিকার দলটি। এবার ২০২৬ আসরে টানা সাত ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
এছাড়া টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে অধিনায়ক হিসেবে দলকে তোলার কীর্তিতেও স্পর্শ করেছেন মেসি। এর আগে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে একই সাফল্য অর্জন করেছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ঐতিহাসিক কীর্তিরও ভাগীদার হলেন বর্তমান অধিনায়ক।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিম জার্মানির কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, ব্রাজিলের দুঙ্গা এবং ফ্রান্সের উগো লরিস। তবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার নজির এখন শুধুই লিওনেল মেসির।
এখন অপেক্ষা ২০ জুলাইয়ের ফাইনালের। স্পেনকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টানা বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।