শনিবার , ১৮ জুলাই ২০২৬
শনিবার , ১৮ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্ববিশ্বমঞ্চে অর্থনৈতিক লাভই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য: সিএনএন বিশ্লেষণ

বিশ্বমঞ্চে অর্থনৈতিক লাভই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য: সিএনএন বিশ্লেষণ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতিতে কূটনৈতিক আদর্শের চেয়ে অর্থনৈতিক লাভকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিকে ক্রমেই ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালনা করছেন।

সিএনএনের মতে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে মিত্র ও প্রতিপক্ষ—উভয় দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ। বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ, সম্পদের মালিকানা বা অংশীদারত্বের দাবি এবং কৌশলগত সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টা তার নীতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও পানামা খালকে ঘিরে সম্প্রসারণবাদী অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে ২০ শতাংশ ফি আদায়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরাসরি ফি আদায়ের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতার পথে এগোনো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর ধারণা। এর প্রভাব জ্বালানির দামসহ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে।

কানাডার অর্থায়নে নির্মিত গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতু নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও ভবিষ্যতে টোল থেকে সম্ভাব্য নিট মুনাফা ভাগাভাগির বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

এ ছাড়া ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। তবে সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এ ধরনের বিনিয়োগের তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: সিএনএন