বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমঅপরাধনামাজ পড়ে শিশুকে ধর্ষণ, ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা: পুলিশ

নামাজ পড়ে শিশুকে ধর্ষণ, ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা: পুলিশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নামাজ পড়ে শিশুকে ধর্ষণ, ১৫ মিনিটের মধ্যে হত্যা: পুলিশ

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক বেনু রায় জানান, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে কলিকে মোস্তফার দোকানের সামনে দেখা যায়। নামাজ শেষে মোস্তফা শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন বলে রিমান্ডে তথ্য দিয়েছেন। এর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।


তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরও মোস্তফা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার কাজে অংশ নেন। এমনকি কয়েক দিন ধরে তিনি নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং কলির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও অংশ নেন।


পুলিশ জানায়, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা আবার তার মুদি দোকান খোলেন এবং গোসল করেন। রিমান্ডে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে দুজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।


তবে মামলার অপর আসামি ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যার পর মোস্তফা তার কাছে সহযোগিতা চান এবং তিনি শুধু মরদেহ গোপন করার কাজে সহযোগিতা করেছেন।


তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায় জানান, মরদেহ উদ্ধারের দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে দ্রুত সময়ে দুই আসামিকে শনাক্ত করা হয়। মোস্তফাকে আটকের সময় তার আচরণে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।


তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলি তার ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। ওই সময় মোস্তফা তার মোবাইলে শিশুটির কয়েকটি অসংগতিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির ছবি তোলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।


তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলে কলি মোস্তফার দোকানের সামনে বসেছিল। পরে স্থানীয় এক পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর মোস্তফা মাগরিবের নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে তিনি শিশুটিকে দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


পুলিশ আরও জানায়, মোস্তফার মোবাইল ফোনে দোকানে আসা বিভিন্ন কিশোরীর আপত্তিকর ভঙ্গিতে তোলা অসংখ্য ছবি পাওয়া গেছে। এসব তথ্য তার আগের আচরণ সম্পর্কেও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।


বেনু রায় বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।


সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিহত শিশুর বিভিন্ন আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের ঘটনায় দুজন জড়িত ছিলেন, নাকি একজন—তা আরও স্পষ্ট হবে। এরপর দুই আসামিরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।


এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, কলিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গোপন করার চেষ্টা করা হয়। মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে।


পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর মোস্তফা ও ইয়াসিনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও আসামিরা দ্রুত তথ্য দেওয়ায় রিমান্ডের মেয়াদ আগেই শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।