রাজধানীর অপরাধচক্র দমনে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে অভিযানের ভাবনা
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অপরাধীচক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান চালানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যুগান্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজ, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় সাম্প্রতিক হামলা ও দখলচেষ্টার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় অপরাধীচক্রের পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক ও ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারে অপরাধীদের ব্যবহারের পুরোনো কৌশল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পুরোনো বিরোধ ও স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাত হোসেনের নামও তদন্তে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া যুগান্তরকে জানান, হামলার আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের শুটার পরিচয়ে সোহেল নামে একজন তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন। জমিতে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিও ছিল বলেও তিনি জানান।
মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের ঘটনাগুলোকেও একই ধরনের জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারের প্রেক্ষাপটে তদন্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে নতুন কোনো অভিযান এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।