রবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › জার্মানিতে হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ আগুন, আটক সন্দেহভাজন

জার্মানিতে হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ আগুন, আটক সন্দেহভাজন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জার্মানিতে হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ আগুন, আটক সন্দেহভাজন

জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের ঐতিহাসিক পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আগুন লাগার কারণ এবং আটক ব্যক্তির সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ট্রাউনস্টাইনের জরুরি সেবাকেন্দ্রে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটিকে আগুনে পুরোপুরি ঘেরা অবস্থায় দেখতে পান।


পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে আগুন নেভানোর কাজে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। শনিবার ভোরেও সেখানে আগুন জ্বলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০০ জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।


‘ঈগলস নেস্ট’ নামে পরিচিত স্থাপনাটির আনুষ্ঠানিক নাম কেলস্টাইনহাউস। জার্মানির বের্শটেসগাডেন শহরের ওপরে আল্পস পর্বতমালার একটি পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত ভবনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর একটি ছিল।


১৯৩৮ সালে নাৎসিদের নির্মিত এই ভবনটি হিটলারের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আশপাশের এলাকাটি নাৎসি নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।


ঈগলস নেস্টের কাছেই ছিল হিটলারের বাসভবন বার্গহফ। ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণের পরিকল্পনা প্রণয়নে হিটলার ও নাৎসি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই বাসভবন ব্যবহার করেছিলেন। পুরো এলাকাটিকে হিটলারের অন্যতম সদর দপ্তর হিসেবে বিবেচনা করা হতো।


নাৎসিরা প্রচারণামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণেও এলাকাটিকে ব্যবহার করেছিল। এসব চলচ্চিত্রে হিটলারকে পশুপাখি ও প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হতো।


১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের পরাজয়ের পরও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় ঈগলস নেস্ট। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ভবনটিতে একটি পাহাড়ি সরাইখানাও রয়েছে। স্থাপনাটির সরকারি ওয়েবসাইটে একে ‘অমানবিক নাৎসি একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতার একটি সতর্কতামূলক স্মারক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার ও তাঁর অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ইউরোপের বিপুলসংখ্যক ইহুদি ছিলেন, যাঁদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ ছাড়া সমকামী, রোমা জনগোষ্ঠীর মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘুকেও বন্দিশিবিরে পাঠিয়ে হত্যা করা হয়।


জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন স্থানে হিটলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ভবনগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এসব স্থাপনা সংরক্ষণ করা হবে, অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে, নাকি ভেঙে ফেলা হবে—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।


এক পক্ষের মতে, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে ভবনগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এসব স্থাপনা নব্য-নাৎসি ও উগ্র ডানপন্থিদের কাছে স্মৃতিসৌধ বা কথিত তীর্থস্থানে পরিণত হতে পারে।


গত জুনে বার্লিন কর্তৃপক্ষ হিটলারের ব্যবহৃত একটি বাঙ্কার ভেঙে ফেলার পরিকল্পনার কথা জানায়। সে সময় স্থাপনাটিকে ‘নাৎসি জার্মানির ক্ষমতার কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। সেখানে আবাসিক ফ্ল্যাট ও কার্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


তবে এ পরিকল্পনার সমালোচকেরা বলেছেন, বাঙ্কারটির উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তাঁদের মতে, এটি ভেঙে না ফেলে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে প্রদর্শনীসহ একটি জাদুঘর ও স্মৃতিসৌধে রূপান্তর করা উচিত ছিল।