রবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ আগুন, আটক ১

হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ আগুন, আটক ১

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ঈগলস নেস্টে’ ভয়াবহ আগুন, আটক ১

দক্ষিণ জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের ঐতিহাসিক অবকাশকেন্দ্র কেলস্টাইনহাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ‘ঈগলস নেস্ট’ বা ‘ঈগলের বাসা’ নামে পরিচিত এই ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আগুন লাগার কারণ এবং আটক ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ট্রাউনস্টাইন এলাকার জরুরি সেবা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পৌঁছায়। পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, পুরো ভবনটি আগুনে জ্বলছে।


পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে আগুন নেভানোর কাজে উদ্ধারকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। শনিবার ভোরেও আগুন জ্বলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০০ জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


বাভারিয়ার বের্শটেসগাডেন শহরের ওপরের পাহাড়ে অবস্থিত কেলস্টাইনহাউস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি। ১৯৩৮ সালে নাৎসি শাসনামলে নির্মিত ভবনটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।


ঈগলস নেস্টের কাছেই ছিল হিটলারের বাসভবন বার্গহফ। ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণের পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় হিটলার ও নাৎসি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই বাসভবন ব্যবহার করেছিলেন। নাৎসি শাসনামলে পুরো এলাকাটি হিটলারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর হিসেবে বিবেচিত হতো।


নিজেকে পশু ও প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরতে হিটলার এই এলাকাকে প্রচারণামূলক চলচ্চিত্রের পটভূমি হিসেবেও ব্যবহার করেছিলেন।


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটক ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালে নাৎসিদের পরাজয়ের পরও ভবনটি ধ্বংস করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে এটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে সেখানে একটি পাহাড়ি সরাইখানাও রয়েছে। ভবনটির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে একে ‘অমানবিক নাৎসি একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতার একটি সতর্কতামূলক স্মারক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার ও তাঁর অনুসারীরা ইউরোপের ইহুদিদের পরিকল্পিত গণহত্যাসহ লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন। সমকামী, রোমা জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘুকেও বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের অনেককে সেখানে হত্যা করা হয়।


হিটলারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ভবনগুলো সংরক্ষণ, অন্য কাজে ব্যবহার কিংবা ভেঙে ফেলা নিয়ে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় দী