বুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ১ নভেম্বর থেকে খাবারের দোকান নিবন্ধনের আবেদন, লাইসেন্সের আওতায় আসছে খাদ্য ব্যবসা

১ নভেম্বর থেকে খাবারের দোকান নিবন্ধনের আবেদন, লাইসেন্সের আওতায় আসছে খাদ্য ব্যবসা

favicon
সাইফুল আলম মিরাজ
১ নভেম্বর থেকে খাবারের দোকান নিবন্ধনের আবেদন, লাইসেন্সের আওতায় আসছে খাদ্য ব্যবসা

রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বড় পরিসরে প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।


নতুন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং নিয়ম না মানলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে।


রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে ভ্রাম্যমাণভাবে ভাজাপোড়া বিক্রি করছেন মিজানুর রহমান। সকালে এক এলাকায়, বিকেলে অন্য এলাকায় দোকান নিয়ে বসেন তিনি। তাঁর মতো অস্থায়ী খাবার বিক্রেতাদেরও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।


তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কেউ তাঁদের কাছে আসেননি, এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।


### নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আসবে যেসব প্রতিষ্ঠান


নিরাপদ খাদ্যসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক এবং বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নিতে হবে।


লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।


তবে সব ধরনের খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে একই সময়ে একই নিয়ম কার্যকর হবে কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলো কীভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


### অন্ধকারে রেস্তোরাঁ মালিকেরাও


নতুন উদ্যোগ নিয়ে শুধু ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাই নন, রেস্তোরাঁ মালিকদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন সম্পর্কে তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।


এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, নিবন্ধনের নিয়ম সহজভাবে জানানো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


### ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে বড় ও মাঝারি আকারের স্থায়ী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


তবে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে নিবন্ধন কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং কী কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেসব বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।


### দেশে খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিপুল


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্থায়ী হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, অস্থায়ী ও অনানুষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।


এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ম সম্পর্কে অবহিত করা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়াও জরুরি।


নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা যাতে অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বাস্তবসম্মত নিয়ম এবং ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর।