যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর: কীভাবে হবে ভোট, কখন জানা যাবে ফল
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে আয়োজিত এই নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন না। বরং প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোটের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি জোড় সংখ্যার বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন হওয়ায় একে মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ বলা হয়।
**যেভাবে হবে ভোটগ্রহণ**
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব সদস্য এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
মূল ভোটগ্রহণের দিন ৩ নভেম্বর হলেও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ কোটি ২০ লাখ ব্যালট জমা পড়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে মিসিসিপি, আলাবামা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো কিছু অঙ্গরাজ্যে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যভেদে ভোটগ্রহণ ও গণনার নিয়ম আলাদা। এ কারণে সব অঙ্গরাজ্যে একই সময়ে ভোট গণনা শুরু বা শেষ হয় না।
**কখন জানা যাবে ফলাফল?**
নির্বাচনের ফল জানতে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ার ওপর।
ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পরপরই নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রাথমিক বা অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ শুরু করতে পারেন। তবে এসব ফল চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী দিনগুলোতে ভোটের হিসাব পুনরায় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।
বিশেষ করে যেসব আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম থাকবে, সেসব আসনের ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।
**ট্রাম্পের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?**
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামী দুই বছরের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভর করবে।
ফলে নির্বাচনে কোন প্রার্থী জয়ী হচ্ছেন, তার পাশাপাশি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের হাতে যাচ্ছে, সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের।