মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম › আইন ও আদালত › মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।


সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও কালাম উদ্দিনের পৃথক আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।


আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ও আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


**তিন মামলায় যেভাবে কারাগারে গেলেন ২৬ জন**


পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা আরেক মামলায় পাঠানো হয়েছে সাতজনকে। এ ছাড়া মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।


কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. কামাল গাজী (৩২), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), রমজান সরকার (১৯), মো. মহিম মোল্লা (১৯), জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান (২২), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ (১৯), মো. নাহিদ হাসান (১৮), মাহবুবুর রহমান জুয়েল (৩৮), শামীম (২৩), মো. সুমন গাজী (২৮), মো. ইউসুফ আলী (২২), রাজীব চন্দ্র দাশ (২৮), মো. জামাল সরকার (৩৩), মো. তারেক হোসেন (২৪), মো. ইমরান হোসেন (৩০), মো. আবুল কাসেম (২২), মো. মহীন উদ্দিন (২৩), কাওসার আহমেদ (২২), মো. রফিক গাজী (২১), মো. ইসমাইল (২০), মো. সাইফুল ইসলাম (২৬), মো. সজীব শেখ (২০) এবং মো. মোর্শেদ আলম (২৫)।


পল্লবীতে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুনের অভিযোগ


পল্লবী থানার পৃথক দুই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়।


এ সময় ওই এলাকায় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং পেট্রলভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করা হয়।


পুলিশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।


মিরপুর-১০-এ ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর


মিরপুর মডেল থানার মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁদের বেতনসংক্রান্ত বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে মিরপুর-১০ এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।


তদন্তের স্বার্থে কারাগারে রাখার আবেদন


আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারেন এবং মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়।