সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির ৫৩ ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ টাকা জব্দ, রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির ৫৩ ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ টাকা জব্দ, রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামির ৫৩ ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ টাকা জব্দ, রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে জব্দকৃত অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এর আগে, সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুল লতিফ ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগ সিআইডিতে অনুসন্ধানাধীন।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাব বিশ্লেষণে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অর্থ খুন, সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই অর্থ স্থানান্তরের ঝুঁকি থাকায় হিসাবগুলো জব্দ করা জরুরি হয়ে পড়ে।


এদিকে, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পির সংশ্লিষ্টতায় ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালান। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয় বলে জানান তিনি।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা-মা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালকসহ মোট একাধিক সহযোগী। তাদের মধ্যে রয়েছেন— মো. হুমায়ুন কবির, মোসা. হাসি বেগম, সাহেদা পারভীন সামিয়া, মারিয়া আক্তার লিমা, ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, মো. কবির, সিবিউন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং মো. ফয়সাল।


উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ফয়সাল করিম মাসুদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।