সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রায়ের বাজারে দাফন করা ১১৪ মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ৮ শহীদের পরিচয় শনাক্ত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রায়ের বাজারে দাফন করা ১১৪ মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ৮ শহীদের পরিচয় শনাক্ত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রায়ের বাজারে দাফন করা ১১৪ মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ৮ শহীদের পরিচয় শনাক্ত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


সিআইডি জানায়, নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে এখন পর্যন্ত ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।


শনাক্ত শহীদরা হলেন— সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ (৩২), মাহিন মিয়া (৩২), ফয়সাল সরকার (২৬), পারভেজ বেপারী (২৩), কাবিল হোসেন (৫৮) এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।


কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।


সিআইডি আরও জানায়, জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থনের সময় যারা নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।


প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। সত্য উদঘাটন ও শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।”


তিনি আরও বলেন, এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে সত্য কখনো চাপা থাকে না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে এবং তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থলেই ল্যাব স্থাপন করে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তা পুলিশের সক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি এক শহীদ মায়ের আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন, যিনি নিয়মিত রায়ের বাজারে একটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে সেখানেই তার সন্তানের মরদেহ শনাক্ত হয়।


বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিআইডি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।