বাংলাদেশ ছাড়া শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, পাকিস্তানের বয়কটে আলোচনায় টুর্নামেন্ট
আজ পর্দা উঠছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। এবার প্রথমবারের মতো ২০ দল নিয়ে আয়োজন করা হলেও টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে লিটন দাসদের নেতৃত্বাধীন দল বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতির প্রভাব পড়েছে পুরো টুর্নামেন্টে। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তানও, যা আইসিসিকে নতুন চাপে ফেলেছে। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হলেও দর্শকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রি আশানুরূপ হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৯৭১টি টিকিট। একই ভেন্যুতে স্কটল্যান্ড-ইতালি ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৪৮টি। এমনকি ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম বলে জানা গেছে। এই তিন ম্যাচেই মূলত বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল, ফলে দলটির অনুপস্থিতি দর্শকসংখ্যায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে আয়োজকরা।
এদিকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের বয়কটের সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচটির টিকিট বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে আইসিসি। ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ ম্যাচটি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং এর মাধ্যমে পর্যটন খাতে বাড়তি আয় প্রত্যাশা করছিল দেশটি। তবে পিসিবি জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার চেতন শর্মা মনে করছেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। তার মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।