সংঘবদ্ধ অপরাধ সূচক ২০২৫: দেশে বাড়ছে অর্থপাচার, মানবপাচার ও অস্ত্র চোরাচালান
বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে উঠে এসেছে গ্লোবাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইনডেক্স-২০২৫-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৯তম থেকে উন্নীত হয়ে ৮৩তম হয়েছে, যা মূলত অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি ও অবৈধ মুদ্রা লেনদেন বেড়েছে। মুজিবনগর সীমান্তে ঘাসের বস্তায় ডলার পাচারের মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা আর্থিক নিরাপত্তার দুর্বলতা প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতে আর্থিক জালিয়াতি এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে মানবপাচারের ক্ষেত্রে। নারী ও শিশুদের যৌন শোষণ ও জোরপূর্বক শ্রমে ব্যবহারের জন্য পাচারের হার বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া বিয়ে বা বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা পাচারকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ করছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব অপরাধের সূচক প্রায় ০.৫০ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে বাজারে নকল পণ্যের সরবরাহও বেড়েছে।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারে ব্যস্ত থাকায় অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ অপরাধ আরও সংগঠিত ও পেশাদার চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা মোকাবিলায় কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।